মিত্র থেকে শত্রু; কেউ যেন বাদ পড়েনি যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্কারোপ নীতি থেকে। মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানের মতো দেশের ওপরও আরোপ হয়েছে যথাক্রমে ২৫ ও ২৪ শতাংশ শুল্ক। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
শুল্কারোপের এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। তৈরি হয়েছে বাণিজ্য যুদ্ধের শঙ্কা। পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে বিভিন্ন দেশ।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা বলেন, ২০১৯ সাল থেকে আমাদের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী। জাপানিজ কোম্পানিগুলো মার্কিন অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং রাখছে। আমরা খুবই হতাশ।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ডুক জিউন বলেন, এটি দুঃখজনক। বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর মার্কিন শুল্কারোপ গভীর প্রভাব ফেলবে। ওয়াশিংটনের সাথে যত দ্রুত সম্ভব আমরা আলোচনায় বসব।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক দাবি করেছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটি বলছে, অবন্ধুসুলভ আচরণ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যানথনি আলবানিজ বলেন, এই শুল্কারোপের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো ভিত্তি নেই, কোনো যুক্তি নেই। এটা আমাদের দুই দেশের অংশীদারীত্বের ভিত্তির বিরুদ্ধে। এটা কোনো বন্ধুর কাজ নয়। বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়বে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কারোপের জেরে পাল্টা পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউরোপ। শিগগিরই এ সংক্রান্ত ঘোষণা আসবে বলে জানিয়েছে।
ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, এটা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিশাল ধাক্কা। বিশ্ব বাণিজ্য তো ক্ষতিগ্রস্ত হবেই সেই সাথে গোটা পৃথিবীর ভোক্তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু আমরা জবাব দিতে প্রস্তুত। স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের বিপরীতে এরইমধ্যে আমরা পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছি। ব্যবসায়ীক স্বার্থ সুরক্ষায় আরও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত ইউরোপ।
এরইমধ্যে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। দেশটির পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে এমন যেকোনো দেশকে জবাব দিতে আইনও পাস করেছে ব্রাজিলের পার্লামেন্ট।